নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ী থেকে অস্ত্র উদ্ধার

আগস্ট ০৬, ২০১৬ ০৭:০৮:পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরপার্বতী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা আজাদের বাড়ি থেকে রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অস্ত্র, গুলি ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবী, যুবলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ানের অন্যতম হত্যাকারী হচ্ছে আজাদ। এছাড়াও আজাদের বিরুদ্ধে আরো একটি হত্যা মামলা রয়েছে।
শুক্রবার সকালে চরপার্বতী ইউনিয়নে ৪নং ওয়ার্ডে বিক্ষুব্দ জনতা আজাদের বসত ঘরে আগুন দিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ১০টায় একদল বিক্ষুব্ধ জনতা একত্রিত হয়ে যুবলীগ নেতা আবু সুফিয়ানের হত্যাকারী আজাদের বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় তারা আজাদের বসত ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও কোম্পানীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল মজিদ জানান, যুবলীগ নেতা আবু সুফিয়ানের হত্যাকরী আজাদের বাড়িতে রাতে অভিযান চালানো হয়েছে। এ সময় আজাদের ভাই ইয়াছিনের ঘর থেকে একটি এলজি, ৯ রাউন্ড গুলি, ৪টি চাকু ও এলজি তৈরির সংরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। অস্ত্র, গুলি ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধাররের ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে চরপার্বতী ইউনিয়নের চৌধুরীহাট বাজারের আল সালাম হোটেলের সামনে যুবলীগ নেতা আবু সুফিয়ানকে গুলি করে আজাদ ও তার লোকজন। পরে স্থানীয় লোকজন মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আবু সুফিয়ানকে উদ্ধার করে প্রথমে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে অবস্থার অবনতি ঘটলে রাত ১১টার দিকে নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুফিয়ানকে মৃত ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৯ মার্চ রাতে আজাদ, ইয়াছিন ও বেলালসহ কয়েকজন চৌধুরীহাট বাজারে চীন শাখা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহেদুল আলম মারুফকে গুলি করে হত্যা করে। পরে ওই ঘটনায় পুলিশ আজাদসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে জামিনে বের হয়ে আবারো হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে বলে পুলিশের দাবী।
আজাদের রাজনৈতিকভাবে কোন পদ পদবী না থাকলেও আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে হিসেবে পরিচিত। মূলত দলীয় আধিপত্য বিস্তারে প্রভাব খাটানোর জন্য স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা আজাদকে ব্যবহার করে থাকে।

Related Post