কোম্পানীগঞ্জ সমিতির নির্বাচনে মালেক-সবুজ এবং আরজু-করিম পরিষদের মনোনয়ন জমা

আগস্ট ২৩, ২০১৬ ১২:০৮:অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রবাসের অন্যতম সংগঠন কোম্পানীগঞ্জ ওযেলফেয়ার এসোসিয়েশান ইউএস’র ২০১৭-১৯ সালের নির্বাচন আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রোববার অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছে দু’প্যানেল। গত রোববার ২০ আগস্ট ব্রুকলীনের চার্চ ম্যাকডোনাল্ডের সমিতির নিজস্ব অফিসে উৎসব মুখর পরিবেশে মনোনয়ন দাখিল অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।প্যানেলগুলোর মধ্যে রয়েছে, আরজু-করিম এবং মালেক-সবুজ পরিষদ। আগামী ২৩ আগষ্ট প্রার্থীদের চুড়ান্ত তালিকা প্রকাশ এবং প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৭ আগষ্ট নির্ধারন করা হয়েছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার অশীষ রঞ্জন ভৌমিক বলেন, একটি সুষ্ঠূ, সুন্দর, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কার্যনির্বাহী কমিটি ২০১৭-২০১৯ গঠনের জন্য এসোসিয়েশানের সকল সদস্য-সদস্যা, ভোটারবৃন্দ ও শুভাকাঙ্খী মহোদয়গণের আন্তরিক সহযোগীতা ও অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করছি।

মালেক-সবুজ পরিষদের প্রার্থীরা হলেন, সভাপতি আব্দুল মালেক,সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন সবুজ, সহসভাপতি আব্দুল আলিম জেহাদী ও জাকির মিয়া, সহসাধারণ সম্পাদক মামুন এ চৌধুরী, কোষাধক্ষ্য মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম, সহকোষাধক্ষ্য আব্দুল, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ ফিরোজ আলম কাজল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সালাউদ্দিন রাসেল, অফিস সম্পাদক নুরুল ইসলাম বাবু, শিক্ষা, ক্রীডা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মিজানুর রহমান, সমাজ কল্যান সম্পাদক নুর আফসার স্বপন, নির্বাহী সদস্য আলমঙ্গীর হোসাইন, মোতাসিম বিল্লাহ সিরাজী ও আব্দুল্লাহ আল মামুন।

আরজু-করিম পরিষদের প্রার্থীরা হলেন, সভাপতি আরজু হাজারী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম সবুজ, সহসভাপতি মুহাম্মদ ইউসুফ ও জসিম উদ্দিন, সহসাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মোহাম্মাদ আরীফ হোসাইন, কোষাধক্ষ্য আবুল খায়ের, সহকোষাধক্ষ্য সালাউদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা স্বপন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সায়েদ মানিক, অফিস সম্পাদক জামাল উদ্দিন মওদুদ, শিক্ষা, ক্রীডা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক রাজ্জাক ফারুক, সমাজ কল্যান সম্পাদক মোবারক হোসেন,নির্বাহী সদস্য গিয়াস ইরফান, জাহাঙ্গীর হোসেন ও মাঈন উদ্দিন আফসার।

সভাপতি প্রার্থী আরজু হাজারী বলেন, আমি কোম্পানীগঞ্জের সন্তান। আমেরিকায় অবস্থানরত প্রবাসীদের পাশে অতীতেও ছিলাম এবং ভষিতেও থাকবো। আরজু-করিম পরিষদের পক্ষে দোয়া কামনা করে করে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাছে আমরা সবোর্চ্চ নির্বাচনী পরিবেশ প্রত্যাশা করছি। যাতে আগামী দিনের সমিতির পরিচালনয়া ভোটারদের যোগ্য নেতা নির্বাচন করতে পারেন।

আরেক সভাপতি প্রার্থী আব্দুল মালেক বলেন, আমি নির্বাচনে এসেছি আপনারদের সেবা করার জন্য। কোম্পানীগঞ্জবাসীর সুখে দুখে ছিলাম এবং ভবিষতেও থাকতে চাই।

সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মোশাররফ হোসেন সবুজ সকলের কাছে দোয়া কামনা করে বলেন, সমিতিতে আমি ৮ বছর ধরে নির্বাচিত হয়ে নিঃস্বার্থে সেবা করে যাচ্ছি। আপনাদের সমর্থন নিয়ে ভবিষতেও সেবা করতে চাই।

আরেক সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মাস্টার আব্দুল করিম সবুজ বলেন, আমি কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুরের সন্তান। কোম্পানীগঞ্জ আমার ভালোবাস। আমি কোম্পানীগঞ্জের মানুষের সেবা করতে চাই।

নির্বাচন কমিশনের নিকট আরজু-করিম প্যানেলের আবেদন:
সংবিধানের অধ্যায়-৮ ধারা ৩১, উপধারা ৩ মোতাবেক বর্তমান কার্যকরী কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিরপেক্ষ থাকার বিধান থাকা সত্ত্বেও তারা একটি প্যানেলের (মালেক-সবুজ) পক্ষে প্রকাশ্যে নির্বাচনী প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে ভোটার ও সমর্থকদের ভয় ভীতি প্রদর্শন করে যাচ্ছে। বর্তমান সভাপতি বাহিরের স্টেটের এক ভোটারকে বলেছেন, তোমরা আমার হাতে ব্যালট তুলে দিতে হবে, অন্যথায় আরজু-করিম পরিষদ জিতলেও চেয়ারে বসতে দিবোনা। এই ধরণের হুমকি এবং প্রকাশ্যে বর্তমান কার্যকরী কমিটির সভাপতির নির্বাচনী প্রচারকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সুষ্ঠ পরিবেশ বিনিষ্ট করছে বলে আমরা মনে করি। তাই নির্বাচন কমিশন যথাযথ ব্যবস্থা নিয়ে সুষ্ঠ ও সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টির জন্য আমরা আবেদন জানাচ্ছি।
নির্বাচন কমিশনার ডাঃ মোহাম্মদ নুর আলম ছিদ্দিক (মুন্না) আবেদন পত্রটি হাতে পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
আরেক নির্বাচন কমিশনার মহসিনুর রহমান খান সবুজ বলেন, আবেদন পত্রটির সাংবিধানিক নিয়ম অনুসরণ করে দেয়া হয়নি। তাই সাংবিধানিকভাবে পত্রটির গ্রহণযোগ্যতা নেই। তারপরও সৌজন্যতা দেখিয়ে আবেদন পত্রটি গ্রহন করেছি। আমরা সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ শতভাগ নিশ্চিত করবো। এজন্য প্রার্থী ও ভোটারদের সহযোগীতা কামনা করছি।

ভোট নিয়ে উত্তেজনা:
ভোট আসলেই আমেরিকায় অবস্থানরত প্রবাসী কোম্পানীগঞ্জবাসীর মধ্যে উত্তেজন ছড়িয়ে পড়ে। এবারও কয়েকমাস আগ থেকে ভোট নিয়ে নিজেদের মধ্যে বাক যুদ্ধ ও পরস্পর রেসারেসি শুরু হয়ে যায়। এমনকি পরিবার ও আন্তীয় স্বজনরা দ্বিদাবিভক্ত হয়ে পড়েন। গত রোববার প্যানেল জমা দেয়ার পর থেকে ম্যাকডেনাল্ড এভিনিউ ও ওজনপার্কের কয়েকটি পরিবারের মধ্যে বিভক্তি দেখাগেছে। গত সোমবার পিটকিন এভিনিউ’র এশিয়ান গ্রোসারীর সামনে দুই প্যানেলের দুই সমর্থক মিজান ও লিঠনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছে। এদের মধ্যে মিজান হচ্ছেন আরজু-করিম পরিষদের সমর্থক এবং লিঠন হচ্ছেন মালেক-সবুজ পরিষদের সমর্থক। ঘটনার কয়েক ঘন্টার চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে পিটকিনে দুই প্যানেলের সমর্থকদের মধ্যে মারামারি হয়েছে। এ নিয়ে মালেক-সবুজ পরিষদের নির্বাচনী কর্ম কর্তা ভিপি বাবুল ও মিনহাজ উদ্দিন বাবরের নেতৃত্বে ও প্রার্থীরা ব্রুকলীনের পিটকিন এভিনিউ’তে ছুটে আসেন। এসময় পিটকিন এভিনিউ’র সাবেক ঢাকা গ্রোসারীর মধ্যে পূর্ব থেকেই আরজু-করিম পরিষদের নির্বাচনী কর্মকর্তা আবুল বাশার ও হাজি মোহাম্মদ সানাউল্লাহ নেতৃত্বে মিটিং চলছিল। এ সময় দু পক্ষের ২০/২৫ জন একত্রিত হয়ে যায়। এ নিয়ে সাময়িক উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে ঘটনাটি নিজেদের মধ্যে মিমাংশা হযে যায়।

Related Post