নোয়াখালীর উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় কোমেন : ১ শিশু নিহত

জুলাই ৩০, ২০১৫ ০৬:০৭:অপরাহ্ণ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

নোয়াখালীর উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় কোমেন। এতে তানজিলা (৮দিন) নামের এক শিশু নিহত হয়েছে। সর্বত্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রশাসনের বিভিন্ন মাধ্যমে সতর্কতা জারি করা হচ্ছে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় কোমেনের প্রভাবে নোয়খালীতে বুধবার রাত থেকে ঝড়ো হাওয়ার সাথে হালকা ও মাঝারি ধরনের বৃষ্টি শুরু হয়। উপকূলীয় উপজেলা হাতিয়ায় বৃহস্প্রতিবার দুপুরে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে নলচিরা ইউনিয়ন প্লাবিত হয়। স্বাভাবিকের চেয়ে দুই থেকে তিন ফুট উচ্চতায় প্রবাহিত জোয়ারের পানিতে সর্বত্র ঢুকে পড়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধায় প্রবল বেগে ঘূর্ণিঝড় কোমেন আঘাতে হানে নোয়াখালীর মেঘনা উপকূলে। এ সময় সোনাদিয়ার গ্রাম থেকে পূর্ব সোনাদিয়া আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার পথে প্রচন্ড বাতাসে ঠান্ডা লেগে তানজিনা বেগম (৮ দিন) নামে নবজাকতের মৃত্যু হয়েছে। সোনাদিয়া গ্রামের আজমীর হোসেন ও মর্জিনা বেগমের কন্যা।

এদিকে আবহাওয়া অফিস ৭ নম্বার বিপদ সংকেত দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রশাসনের সহযোগীতায় উপকূলীয়াঞ্চল হাতিয়া, সুবর্ণচর, কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট উপজেলার বিভিন্ন দ্বীপ ও দুর্গম চরের লোকজন নিরাপদ আশ্রয়ে সরে আসতে শুরু করে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির স্বেচ্ছাসেবকরা সাইরেন বাজিয়ে ও প্রচার মাইকে সতর্ক বার্তা প্রচার করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন স্থানে লোকজনকে সতর্ক করে তিনটি লাল পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

তবে এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত রাত পৌনে ১০ টায় জেলার উপর দিয়ে প্রবল ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি হালকা ও মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।

তবে বন্যার পানির সাথে সাথে জোয়ারের পানিতে সুবর্ণচর উপজেলার চরআমান উল্যা ও চরওয়াপদা সহ বিভিন্ন ইউনিয়নে গত ১০/১৫ দিনের প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমির আমন ধানের বীজ তলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু হাসনাত মো. মাইন উদ্দিন জানান, নিঝুম দ্বীপসহ বেড়ি ও বেড়ির পাশের লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে আনা হয়েছে এবং বিকালে আশ্রয় কেন্দ্রে আশার পথে ঠান্ডা জনিত কারণে তানজিনা নামে এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করা হচ্ছে।

সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) মো. হারুনুর রশিদ জানান, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি মনিটর করতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মহোদয় বর্তমানে সুবর্ণচরে অবস্থান করছেন। তিনি বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্র পরিদর্শন করে দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আহমদ কবির জানান, সুবর্ণচরের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও আশ্রয়ণকেন্দ্র পরিদর্শন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আবহওয়ার পূর্ব সংকেত না পাওয়া পর্যন্ত লোকজনকে আশ্রয়ণকেন্দ্রগুলোতে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে সার্বিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অনুপম বড়–য়া জানান, জেলায় ২৩০টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ১১৪টি মেডিকেল টিম ও সাড়ে পাঁচ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক যানবাহণ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. ইলিয়াছ শরীফ জানান, জেলা পুলিশের একশ জনের একটি টিম উদ্ধার তৎরতায় অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক যানবাহণ নিয়ে প্রস্তুত রয়েছে।

Related Post