ফেনীতে গৃহবধুকে শ্বাসরোধে হত্যা

জুলাই ২৪, ২০১৫ ০৮:০৭:পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেনীতে নাজমা আক্তারকে (২৬) নামের এক গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করছে পুলিশ। নাজমাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে সুরতহাল রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। মঙ্গলবার মধ্যেরাতে সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের মুহুরী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
স্বজনদের অভিযোগ,  নাজমাকে যৌতুকের জন্য স্বামী দেলোয়ার হোসেন শিপন (৩২) হত্যার পর আন্তহত্যা বলে প্রচার করছে। ঘটনার পর থেকে শিপন পলাতক রয়েছেন।
নিহত নাজমার বড় ভাই মোহাম্মদ শামীম জানান, সোনাগাজী উপজেলার ছাড়াইতকান্দি আজিজ লন্ডনী বাড়ির আবুল কালামের মেয়ে নাজমা আক্তারের সাথে পাঁচ বছর আগে সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের মুহুড়ি বাড়ির বশির আহম্মেদের ছেলে দেলোয়ার হোসেন শিপনের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় স্বামী শিপন সৌদি প্রাবাসী হলেও বিয়ের বছর খানের পর সে দেশে চলে আসে। শিপন পূণঃরায় বিদেশ যাওয়ার জন্য শ্বশুড় বাড়িতে যৌতুকের টাকার জন্য স্ত্রী নাজমা আক্তারকে চাপ দিতো। এসময় নাজমার ওপর শারীরিক ও মানষিক নির্যাতনও চালাতো। কয়েক মাস পূর্বে শিপন শ্বশুড়ের কাছে তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। দরিদ্র শ্বশুড় ও তার পরিবার টাকা দিতে অপারোগতা প্রকাশ করলে নাজমার ওপর একাধিক সময়ে নির্যাতন চালানো হয়। ঈদের আগে নাজমান ভাই শামীম বোনের জামাই শিপনকে নগদ ৫ হাজার টাকা ও এক হাজার টাকার কাপড় ক্রয় করে দেয়। এর পরেও শিপন তার স্ত্রী নাজমাকে গালমন্দ করে যৌতুকের টাকার জন্য চাপ দেয়। 
 
গত সোমবার শিপন তার শ্বশুড় বাড়িতে ফোন করে নাজমাকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য বলে। মঙ্গলবার নাজমার ছোট ভাই ও ভাগিনা শিপনের বাড়ি যেয়ে নাজমাকে নিতে চাইলে নাজমার একমাত্র ছেলে সন্তানকে তাদের কাছে দিয়ে দেয়। নাজমা ও শিপন শুক্রবার শ্বশুড় বাড়ি যাবে বলে তাদের জানিয়ে দেয়। তারা চলে যাওয়ার পর মঙ্গলবার রাতে শিপন তার শ্বশুড় বাড়িতে মোবাইলে ফোন করে নাজমা আতœহত্যা করেছে বলে জানায়। পরে সে ফোন বন্ধ করে পালিয়ে যায়। নাজমার বাড়ির লোকজন পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘরের আঁড়ার সাথে ঝোলানো অবস্থায় নাজমার লাশ উদ্ধার করে।  
 
ফেনী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) অসীম কুমার সাহা জানান, লাশের ময়নাতদন্তে শ্বাসরোধের আলামত পাওয়া গেছে। তবে তাতক্ষনিক ভাবে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাতে অপারোগতা প্রকাশ করেছেন।
 
ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শাহীনুজ্জামন জানান, এ ঘটনায় নিহতের বাবা আবুল কালাম বাদি হয়ে নিহত নাজমার স্বামী শিপন ও ভাসুর দুলালের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো কয়েক জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছে। ঘটনার পর থেকে শিপন ও দুলাল পলাতক রয়েছে।
 
 

Related Post