১২ বছর ঝুলে আছে এম.পি.ও: মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের’ই ভরসা

ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১৭ ১২:০২:পূর্বাহ্ণ

বিশেষ প্রতিবেদন: সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরর সুপারিশের ৬ বছর পরেও নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মুছাপুর শরাফতিয়া মাদরাসারার আলিম ক্লাসের এম.পি.ও (জাতীয়করণ) ভুক্ত হয়নি। আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এম.পি ও ভুক্তির জন্য ২০১০ সালে সুপারিশ করেন। কোন অদৃশ্য কারনে এখনো মাদরাসাটির এম.পি.ও ভুক্তি ঝুলে আছে। ২০০৪ সাল থেকে ২০১৬ পর্যন্ত প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী অত্র মাদরাসা থেকে আলিম পাশ করেছেন। প্রতি বছর পাশে হার ৯০ ভাগের চেয়ে বেশী রয়েছে। ২০১৭ সালে ৪৪ জন ছাত্র-চাত্রী আলিম পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা রয়েছে।
আলিম ক্লাসের জন্য ৪ জন শিক্ষক থাকলেও তারা এমপিও ভুক্তি না থাকায় বেতন পাচ্ছেননা। প্রথম থেকে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ আংশিক বেতন দিলেও এখন বন্ধ রয়েছে। যার কারনে আলিমের জন্য নিযোগকৃত শিক্ষকরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এ অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের দিকে তাকিয়ে আছে এলাকাবাসী। এখন মন্ত্রী’ই শেষ ভরসা।

উল্লেখ্য, মুছাপুরের কৃতি সন্তান মরহুম ড. মাওলানা আবদুর রহিম প্রত্যান্ত এলাকার দরিদ্র মানুষের লেখা পড়া বিমুখ ছেলে-মেয়েদের জ্ঞানের আলোদানের চিন্তা করে ১৯৮০ সালে এই মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯২ সালের জানুয়ারীতে প্রথম দাখিল স্বীকৃতি লাভ করে এবং ১৯৯৩ সালের জানুয়ারীতে দাখিল এম.পি.ও ভুক্ত হয়। বর্তমানে ৬ষ্ঠ থেকে দাখিল (দশম শ্রেণী) পর্যন্ত ৫২৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। গত ২৪ বছরে মাদরাসা থেকে প্রায় ১৫শ শিক্ষার্থী দাখিল পাশ করেছেন। এ প্রতিষ্ঠানের বহু শিক্ষার্থী ঢাকা ও চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের নামকরা প্রতিষ্ঠানে পড়া লেখা করছেন। এছাড়াও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষা গ্রহনে বিদেশে রয়েছেন।

লন্ডন প্রবাসী সাবেক ছাত্র ইমাম মোকাররম হোসাইন জানান, দ্বীনি শিক্ষা ও প্রত্যান্ত অঞ্চলের মানুষের মাঝে শিক্ষার বিস্তারে কথা চিন্তা করে মরহুম ড. মাওলানা আব্দুর রহীম মুছাপুরে মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। গত আগষ্টে ড. রহীম ইন্তেকাল করার পর থেকে মাদরাসাটি অার্থিক সংকটে ভুগছে। এ অবস্থায় মাদরাসার পড়া লেখার মান ধরে রাখার জন্য আলিম ক্লাসের এম.পি.ও ভুক্ত হওয়া প্রয়োজন।

আমেরিকা প্রবাসী সাবেক ছাত্র আরীফ হোসাইন বলেন, দীর্ঘ দুই যুগ ধরে কোম্পনীগঞ্জের প্রত্যান্ত অঞ্জল ও নদী ভাঙ্গন এলাকায় জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে মুছাপুরের মৌলভী শরাফতিয়া মাদরাসা। এ আলো ধরে রাখার জন্য রাজনৈতিক ব্যক্তি ও স্থানীয়দের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। বিশেষ করে আলিম (উচ্চ মাধ্যমিক সমমান) ক্লাসের এম.পি.ও ভুক্তি দরকার। এ জন্য বাংলাদেশ সরকারের সফল মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নোয়াখালীর গর্ব জননেতা ওবায়দুল কাদের এমপি’র সুদৃষ্টির মাধ্যমেই সম্ভব মাদরাসাটির আলিমের এম.পি.ও ভুক্তি।

মাদরাসার সাবেক ছাত্র মুছাপুর ছাত্র লীগের সভাপতি মাসুম খান মাখন বলেন, মাদারাসার শিক্ষার মান আরো এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক ব্যক্তি, সাবেক ছাত্র ও এলাকাববাসীকে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে মাদরাসাটি আলিমের জাতীয়করণের জন্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মন্ত্রী ওবায়দুল নিকট দাবী জানাচ্ছি।

আলিম ক্লাসের কেন এম.পি.ও দরকার:
প্রবাসী অধ্যশিত মুছাপুরে ধনী পরিবারের পাশাপাশি নদী ভাঙ্গন কবলিত নিম্ন আয়ের জনসংখ্যার হারও কম নই। মাধ্যমিক স্তর পড়া লেখা শেষে প্রবাসীরা তাদের সন্তানকে ঢাকাসহ দেশের নামকরা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করান। অন্যদিকে মধ্য ও নিম্ন ভিত্ত পরিবারের এক মাত্র ভরসা শরাফতিয়া মাদরাসা। তাদের সন্তানের মেধা বিকাশের মাধ্যমে জীবনের গতি পথ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেন। এই ধরণের বেশ কয়েকটি পরিবারের সন্তান মাদরাসা থেকে আলিম শেষে দেশের নামকরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া-লেখা শেষে পরিবারের হাল ধরেছেন।
১২ বছর ধরে নিজস্ব অর্থায়নে মাদরাসাটি আলিম ক্লাসের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। এ সময়ে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী আলিম (উচ্চ মাধ্যমিক) পাশ করেছেন। মাদরাসাটির প্রতিষ্ঠাতা ড. আব্দুর রহীমের ইন্তেকালের পর নিজস্ব অর্থায়নে শিক্ষা কার্যক্রম সংকোচিত হয়ে আসছে। আলিমের জাতীয়করন (এম.পি.ও) না হলে মধ্য ও নিম্ন ভিত্ত পরিবারের সন্তানরা উচ্চ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে। এ অবস্থায় নোয়াখালীর গর্ব বাংলাদেশ সরকারের সফল মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি’ই পারেন বিশেষ বিবেচনায় আলিম জাতীয়করণ (এম.পি.ও) করতে।

Related Post