মুছাপুরে মাওলানা অাব্দুর রহিম গুণীজন সম্মাননা ও শরফাতিয়ার সাবেক ছাত্রদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত।

মার্চ ৩১, ২০১৭ ০৩:০৩:অপরাহ্ণ

নাঈম হাসান পাভেল।

নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি ও আধুনিক শিক্ষার সূতিকাগার মুছাপুর শরফাতিয়া ফাযিল মাদ্রাসার সাবেক ছাত্র পরিষদের উদ্যোগে ও সাবেক ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণে মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা মরহুম ডক্টর মাওলানা অাব্দুর রহিম গুণীজন সম্মাননা ও প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।

শরফাতিয়া মাদ্রাসার প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্র-ছাত্রীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিলো মাদ্রাসা ক্যাম্পাস, এ যেন প্রাণের উচ্ছ্বাস। পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে এসেছে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। অনেক বছর পর দেখা হয়েছে প্রিয় সহপাঠির সাথে। অনুষ্ঠান ঘিরে উৎসবে মেতেছেন মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, পরিচালনা পরিষদের সদস্য ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
৩০ শে মার্চ বৃহস্পতিবার মাদ্রাসা একটি ভবনে অনুষ্ঠিত এই সভার সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসাটির প্রিন্সিপাল মাওলানা রুহুল অামিন। মাদ্রাসার প্রথম ব্যাচের ছাত্র মাহমুদ হাসানের সঞ্চালনায় মাদ্রাসার ফাযিল বিভাগের ছাত্র মোঃ শাহ অালমের পবিত্র কোরঅান থেকে তিলাওয়াত মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
সম্মাননা সভায় অতিথী হিসেবে কোম্পানিগঞ্জ ও মুছাপুরের বিশিষ্ট ব্যাক্তিদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা অাব্দুল হাই, মাষ্টার শেখ মোঃ অাব্দুল্লাহ, মাওঃ মোশাররফ হোসেন, মাওলানা মহিউদ্দিন, হাফেজ অাব্দুল হক শাহজাহান, মৌঃ এস এম জামাল, মাওঃ হাবীব উল্যাহ, মাওলানা মোঃ অলি উল্যাহ প্রমুখ।

মাদ্রাসার প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের পুনর্মিলনী ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে সাবেক ছাত্রদের বক্তব্য রাখেন মাসুম খান মাখন, মোঃ ইমাম মেহেদী, জাকির হোসাইন, ইন্জিনিয়ার মোঃ অাবু ফয়সাল, অাব্দুল মান্নান। এছাড়াও বর্তমানে অধ্যয়নরত ছাত্রদের মাঝে বক্তব্য রাখেন মোঃ অামজাদ ও মোজাম্মেল হক। অনুষ্ঠানে ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন সাবেক ছাত্র মোঃ অানোয়ার হোসাইন।

প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘অনুষ্ঠানে এসে ভালো লাগছে। বিশেষ করে, পুরনো সহপাঠীদের সঙ্গে দেখা হওয়ায় বেশি ভালো লেগেছে।’
প্রাক্তন ছাত্র মোঃ ইমাম মেহেদী বলেন, ‘যে প্রতিষ্ঠানে অনেক বছর লেখাপড়া করেছি, সেই মাদরাসার সাবেকদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান হচ্ছে। শুনে থাকতে পারিনি। মাদ্রাসায় এসে মনে হলো কিছু সময়ের জন্য হলেও ছাত্রীজীবন ফিরে পেলাম। অনেক ভালো লাগল।’

অনুষ্ঠানের শেষে কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল, মুছাপুর ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম শাহীন, কোম্পানিগঞ্জের সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান একরামুল হক মিয়া, মাওলানা অাব্দুল হাই, মাষ্টার শেখ মোঃ অাব্দুল্লা, মাওঃ মোশাররফ হোসেন, মাওলানা মহিউদ্দিন, হাফেজ অাব্দুল হক শাহজাহান, মৌঃ এস এম জামাল, মাওঃ হাবীব উল্লাহ সাহেবকে বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

এছাড়াও মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা মরহুম ডক্টর মাওলানা অাব্দুর রহিম কে মরনোত্তর সম্মাননা এবং মাদ্রাসাটির দীর্ঘদিন সভাপতির দায়িত্বে থাকা মাওলানা অাব্দুল হাই কে অাজীবন সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে প্রবাস থেকে একান্তভাবে সহযোগিতায় ছিলেন ব্রিটেন থেকে মাদ্রাসার সাবেক ছাত্র ইমাম হোসাইন, অামেরিকা থেকে সাংবাদিক অারিফ হোসাইন, পর্তুগাল থেকে শাকিল জিয়া অনুষ্ঠানের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন।

একনজরে মুছাপুর জামেয়া শরফাতিয়া মাদ্রাসা:-
কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মুছাপুর শরফাতিয়া মাদ্রাসা এতদঞ্চলের লোকদের নিকট একটি সুপরিচিত প্রতিষ্ঠান। ১৯৮০ সালে নোয়াখালীর কৃতি সন্তান, ব্রিটেনের বার্নিংহ্যাম মুসলিস সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম ডক্টর মাওলানা অাব্দুর রহিম বিদ্যাপীঠ স্বরূপে এই জ্ঞান বৃক্ষের বীজ বপন করেছিলেন। তা আজ এক মহীরূপ ধারণ করেছে। সবুজ-শ্যামল পল্লী অঞ্চলের অবহেলিত লোকদের কুসংস্কারমুক্ত ও দ্বীনি শিক্ষার মহান দায়িত্বকে সামনে রেখে এ বিদ্যাপীঠ যাত্রা শুরু করে। সুদীর্ঘ কাল ধরে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করার মধ্যদিয়ে আজ এটি শতবর্ষে উপনিত হয়েছে। কালের বিবর্তনে এ মাদ্রাসা আজ নোয়াখালী দক্ষিণেন অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। সুন্দর মনোরম পরিবেশে অবস্থিত হওয়ার পাশাপাশি কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সুন্দর পরিচালনার জন্য সমগ্র উপজেলায় মাদ্রাসাটি প্রশংসিত। প্রতি বছর মাদ্রাসা পর্যায়ে দাখিল ও আলিম পরীক্ষার ফলাফলে এ মাদ্রাসা কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল করে আসছে।

মাদ্রাসাটির প্রিন্সিপাল মাওলানা রুহুল অামিন ও শিক্ষকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বিগত কয়েক বছর ধরে এই মাদ্রাসা প্রায় শতভাগ পাস করার পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জিপিএ-৫ লাভ করে শিক্ষার্থীরা। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা লাভে অধ্যয়নরত। শিক্ষা জীবন শেষ করে দেশ মাত্রিকার কল্যাণে বিভিন্ন পেশায় এ বিদ্যায়তনের শতশত শিক্ষার্থী নিয়োজিত রয়েছে। প্রিন্সিপাল মাওলানা রুহুল অামিন জানান কোম্পানিগঞ্জের দক্ষিণাঞ্চলে শিক্ষার প্রসারে মুছাপুর শরফাতিয়া মাদ্রাসা অবদান রেখে চলেছে। বর্তমানে মাদ্রাসাটির অালিম বিভাগ জাতীয়করণ প্রয়োজন, এটি করা সম্ভব হলে শরফাতিয়া মাদ্রাসা মেধাবীদের সঠিক শিক্ষাদানের মাধ্যমে তৈরি করে কোম্পানিগঞ্জ তথা নোয়াখালীর শিক্ষার প্রসারে অারো বেশী অবদান রাখতে পারবে। এজন্য নোয়াখালীর কৃতিসন্তান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সুদৃষ্টি কামণা করি।

Related Post