রব-রহুল পরিষেদর জমজমাট প্রচারণা: নয়ন-আলী পরিষদে কোন্দল

অক্টোবর ১৮, ২০১৮ ০৮:১০:পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব রিপোর্ট: আসন্ন আগামী ২১ অক্টোবর রোববার বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন উপলক্ষ্যে চলছে দুই প্যানেলের শেষ মুহুর্তে প্রচারনা। ইতিমধ্যে দুই প্যানেল নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করেছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দুই প্যানেল হচ্ছে- রব-রুহুল এবং নয়ন-আলী। রব-রুহুল পরিষদের প্রার্থীদের মধ্যে অধিকাংশ বর্তমান কমিটির নেতা ও পরিচিত মুখ। জমজমাট নির্বাচনী প্রচারনায় সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে তারা।

অন্যদিকে নয়ন-আলী পরিষদের অধিকাংশ প্রার্থী নতুন মুখ। শেষ মুহুর্তে এসেও প্রার্থীদের মধ্যে কোন্দল বিরাজ করছে। কোন্দলের কারনে অনেক প্রার্থী পৃথক পৃথক নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছে। এছাড়াও নয়ন-আলী পরিষদের শীর্ষ ৩ প্রার্থীর বিরুদ্ধে নারী ও অর্থ কেলেংকারী ঘটনা প্রচারও হওয়ায় বেকায়দায় পড়েছে তারা। নির্বাচনের শেষ সাপ্তাহেও সংবাদ সম্মেলনে ইসি বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা করছেন।

অন্যদিকে নোয়াখালী অঞ্চলের ভোটার টানতে নয়ন-আলী পরিষদের আবু নাছেরকে চেয়ারম্যান করা হলেও তেমন কোন সুবিধা করতে পারেননি। মুলত আবু নাছেরের নোয়াখালী অঞ্চলের হলেও  সংগঠদের সঙ্গে তেমন যোগাযোগ না বলেই চলে। এছাড়াও নোয়াখালী অঞ্চলের সমিতিতেও তেমন প্রভাব নেই নয়ন-আলী পরিষদের চেয়ারম্যান আবু নাছের। বরং নোয়াখালী অঞ্চলের সমিতিগুলো বিশেষ করে রব মিয়াকে জয়ী করার জন্য নিজেরাই ফান্ড রাইজিং করে মাঠে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।

নোয়াখালী অঞ্চলের স্বতন্ত্র সভাপতি জয়নাল আবেদীন প্রার্থী হলেও উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম চোখে পড়েনি। অভিযোগ রয়েছে, নোয়াখালী অঞ্চলের অন্যতম হেভিয়েট প্রার্থী রব মিয়াকে ঠেকাতে নির্বাচনী কৌশল হিসেবে জয়নালকে প্রার্থী করা হয়েছে। বিনিময়ে নির্বাচনী সকল খরচসহ বিশাল অংকের অর্থ দেয়া হয়েছে জয়নালকে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানাগেছে, রব-রুহুল পরিষদ অনেকটা সুবিদাজনক অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে সভাপতি প্রার্থী রব মিয়া ক্লিন ইমেজের সংগঠক হিসেবে পরিচিত। বৃহত্তর  নোয়াখালী সোসাইটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় সামাজিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে রব  মিয়া পরিচিত হয়ে উঠেন। এ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী রহুল আমিন দীর্ঘ দিন ধরে বাংলাদেশ সোসাইটির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক। এরআগের কমিটির কোষাধক্ষ্য হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব করেছিলেন।

রব-রুহুল পরিষদের প্রার্থীদের মধ্যে অধিকাংশ বর্তমান কমিটিতে রয়েছেন। তারা সোসাইটিতে ক্লিন ইমেজের ব্যক্তি হিসেবে জনপ্রীয়। এছাড়াও নির্বাচনী প্রচারনায় অনেকটা এগিয়ে রয়েছে তারা। ইতোমধ্যেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দুই নির্বাহী সদস্যকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, নয়ন-আলী পরিষদ বেশী ভোটার জমা দিলেও ৩ হাজারেরও ডবল ভোটার হওয়ায় চিন্তিত হয়ে পড়েছে। বেশী ভোটার জমা দিয়ে সাময়িক সুবিদাজন্ক অবস্থানে থাকলেও পরিষদের প্রার্থীদের মধ্যে চরম কোন্দল বিরাজ করেছে। বিশেষ করে দুই প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বাতিল হওয়ায় নিজেদের মধ্যে অবিশ্বাস সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও সভাপতি প্রার্থী কাজী নয়নের স্বেচ্চারীতার কারণেও পরিষদের প্রার্থীদের মধ্যে কোন্দল সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রার্থী (নয়ন-আলী)। এছাড়াও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আবু নাছের ও নোয়াখালী বিদ্বেষী হিসেবে পরিচিত পর্দার অন্তরালের কারিগর এম আজিজের সঙ্গে দ্বন্দ্বের কথাও শুনাচ্ছে।

ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানাগেছে, নয়ন আলী পরিষদের গুরুত্ব পূর্ণ ৩ প্রার্থীর বিরুদ্ধে নারী কেলেংকারী ও অর্থ কেলেংকারী ঘটনাও আলোচনা হচ্ছে। এ পরিষদের এসব দূর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে রব-রহুল পরিষদ নির্বাচনী প্রচারণায় সুবিদাজনক অবস্থায় রয়েছে। এছাড়াও ভোটাররা ২০ ডলারের কাছে নিজের বিবেক বিক্রি করবেনা বলে মনে করেন কমিউনিটি নেতারা। তারা যোগ্য প্রার্থীকে বুঝে শুনে ভোট দিবে।

আঞ্চচলিক ভোট ফ্যাক্ট: বাংলাদেশ সোসাইটিতে আঞ্চলিক ও ব্যক্তিগত ভোটও জয় পরাজয়ে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। আলোচিত অঞ্চলগুলোর মধ্যে রয়েছে সিলেট, নোয়াখালী, বিক্রমপুর, নারায়নগঞ্জ, চট্রগ্রাম ও সন্ধীপ। বর্তমান সভাপতি সিলেট অঞ্চলের কামাল আহমেদসহ সিলেট অঞ্চলের অধিকাংশ নেতা রব-রুহুল পরিষদের পক্ষে কাজ করছেন। নোয়াখালী অঞ্চলের শুধু আবু নাছের নয়ন আলী পরিষদের পক্ষে কাজ করছেন। বাকী সব নেতারা রব-রহুল পরিষদের পক্ষে মাঠে রয়েছেন। এছাড়া বিক্রম, স্বন্দীপ ও চট্রগ্রাম অঞ্চলে দুই পরিষদের সমান সমান অবস্থান রয়েছে বলে জানাগেছে।

সোসাইটির আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ‘নয়ন-আলী’ প্যানেলের প্রার্থীরা হলেন: সভাপতি- কাজী আশরাফ হোসেন (নয়ন), সিনিয়র সহ সভাপতি- আব্দুর রহীম হাওলাদার, সহ সভাপতি- মোহাম্মদ আর করীম (সাগর), সাধারণ সম্পাদক- মোহাম্মদ আলী, সহ সাধারণ সম্পাদক- মোহাম্মদ দুলাল মিয়া, কোষাধ্যক্ষ- মোহাম্মদ জেড খান (ডিউক), সাংগঠনিক সম্পাদক- আহসান হাবিব, সাংস্কৃতিক সম্পাদক- মনিকা রায়, জন সংযোগ ও প্রচার সম্পাদক- শেখ হায়দার আলী, সমাজকল্যান সম্পাদক- আবুল কাশেম চৌধুরী, সাহিত্য সম্পাদক- মোহাম্মদ হাসান (জিলানী), ক্রীড়া ও আপ্যায়ন সম্পাদক- মোহাম্মদ এইচ রশীদ (রানা), স্কুল ও শিক্ষা সম্পাদক- মোহাম্মদ এস মিয়া (সামাদ) এবং কার্যকরী সদস্য- জেড আর চৌধুরী, মোহাম্মদ এম আলম, মোহাম্মদ এ সিদ্দিক, সাঈদুর আর খান (ডিউক), আহসান উল্লাহ, (মামুন) ও আলী আকবর।

‘রব-রুহুল’ প্যানেলের প্রার্থীরা হলে: সভাপতি- আব্দুর রব মিয়া, সিনিয়র সহ-সভাপতি মহিউদ্দীন দেওয়ান, সহ সভাপতি- আব্দুল খালেক খায়ের, সাধারণ সম্পাদক- রুহুল আমিন সিদ্দিকী, সহ সাধারণ সম্পাদক- মো. আজাদ (বাকির), কোষাধ্যক্ষ- নওশেদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক- আবুল কালাম ভুঁইয়া, সাংস্কৃতিক সম্পাদক- ডা. শাহনাজ লিপি, জন সংযোগ ও প্রচার সম্পাদক- রিজু মোহাম্মদ, সমাজকল্যাণ সম্পাদক- মোহাম্মদ টিপু খান, সাহিত্য সম্পাদক- ফয়সল আহমদ, ক্রীড়া ও আপ্যায়ন সম্পাদক- মাইনুল উদ্দিন মাহবুব, স্কুল ও শিক্ষা সম্পাদক- প্রদীপ ভট্টাচার্য, কার্যকরী সদস্য- মোঃ সাদী মিন্টু, ফারহানা চৌধুরী, শাহ মিজান, আবুল বাশার, আক্তার হোসেন বাবুল ও সুশান্ত দত্ত।

উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ২৭,৫১৩। যা রেকর্ড ভোটার। এরমধ্যে ৪৮৮ জন আজীবন সদস্য/ভোটার রয়েছেন। সাধারণ ভোটার হচ্ছে ২৭,০২৫ জন।

 

Related Post