লক্ষ্মীপুরে বন্ধুক যুদ্ধে জসিম বাহিনীর প্রধান নিহত

জুন ১২, ২০১৫ ০৪:০৬:অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দত্তপাড়া এলাকায় বন্ধুক যুদ্ধে জসিম বাহিনীর প্রধান নিহত বলে  বলে দাবী করেছে পুলিশ।  এ সময় সন্ত্রাসী ব্যালজিয়াম সুমন ও দেলোয়ার হোসেন নামে দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে । দুইজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুইজনেরই অবস্থায় আশংকাজনক বলে জানিয়েছে সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ জয়নাল আবেদিন। এসময় ৬ পুলিশ সদস্য আহত হয়।
ঘটনাস্থল থেকে একটি একটি বিদেশী পিস্তল,একটি বন্দুক ও ৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে বলে দাবী করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে আজ সোমবার রাতে সাড়ে ১০টার দিকে। নিহত জসিম উদ্দিন একই উপজেলার উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের দক্ষিন মাগুড়ী গ্রামের জয়নাল আবেদিনের ছেলে।  অপর গুলিবিদ্ধ দুইজনের অবস্থায় একই এলাকায়। তবে নিহতের পরিবার এটিকে পুলিশের হত্যাকান্ড বলে দাবী করেছে।
পুলিশ জানায়, পুলিশের তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসী ও হত্যা,চাঁদাবাজি,অপহরনসহ প্রায় ৩০ মামলার আসামী বাহিনী প্রধান জসিম উদ্দিন সদর উপজেলার দত্তপাড়া এলাকায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে তার বাহিনীর সন্ত্রাসী নিয়ে জড়ো হয়েছিল। এ খবর পেয়ে পুলিশ জসিম উদ্দিন ও তার বাহিনীর সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালায় ওই এলাকায়। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়েঁ। এসময় পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়েঁ। এতে জসিম উদ্দিন,দেলোয়ার হোসেন ও ব্যালজিয়াম সুমন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জসিম উদ্দিনকে মৃত ঘোষনা করেন। অপর গুলিবিদ্ধ দেলোয়ার হোসেন ও ব্যালজিয়াম সুমনের অবস্থায় ও আশংকাজনক বলে জানিয়েছে চিকিৎসক। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এসময় পুলিশ কনস্টেবল জহিরুল ইসলাম,তুহিন,রুপক চাকমা,কামাল হোসেন ও এজাজ হোসেনসহ ৬ পুলিশ সদস্য আহত হয়। আহত পুলিশ সদস্যদের হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। অপরদিকে স্থানীয় এলাকাবাসী নিহত জসিম উদ্দিন ও আহত সুমন এবং দেলোয়ার হোসেনকে বিএনপির কর্মী বলে জানালেও জেলা বিএনপির নেতারা তাদের কর্মী বলে স্বীকার করেনি।
সহকারী পুলিশ সুপার মো. জুনাইদ কাউছার জানান, পুলিশের তালিকাভূক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী বাহিনী প্রধান জসিম উদ্দিনকে ধরতে অভিযানে গেলে পুলিশের সাধে সন্ত্রাসীদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এসময় জসিম উদ্দিনসহ তিন সন্ত্রাসী গুলিবিদ্ধ হয়। পরে হাসপাতালে নেয়ার পর জসিম মারা যায়। ৬ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি আমেরিকার তৈরি পিস্তল,একটি বন্দুক ও ৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। নিহত জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে সদর থানা,চন্দ্রগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে হত্যা,চাঁদাবাজি,অপহরনসহ প্রায় ৩০টি মামলা রয়েছে। অপর গুলিবিদ্ধ দুই সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে দাবী করেছে তিনি।
উল্লেখ্য, র‌্যাব ও পুলিশের ক্রসফায়ার বা বন্ধুক যুদ্ধের ঘটনা নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো সমালোচনা রয়েছে। ক্রসফায়ারে নিহতকে আইন শৃংখলা বাহিনীর পরিকল্পিত হত্যা বলে দাবী করে আসছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তাই বন্ধুক যুদ্ধে হত্যা বন্ধের দাবী জানিয়ে আসছে সংগঠনগুলো।

Related Post