প্রবাসে গুলশান আরা বেগমের ঈদ

জুলাই ১৩, ২০১৬ ০২:০৭:পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
গুলশান আরা বেগম। বয়স ৯০। দীর্ঘদিন ধরে ৫ ছেলে-মেয়ে, নাতী নাতনীসহ শতাধিক স্বজনদের নিয়ে ঈদুল ফিতর উদযাপন করেন। বুধাবর নিউইয়র্কের কুইন্সের জ্যামাকার হোমলোন স্ট্রিটের ছেলে সাহাব উদ্দিন চৌধূরীর বাড়ীতে স্বজনদের নিয়ে ঈদ করেছেন। গুলশান আরা বেগমের এক ছেলে ও ৪ মেয়ে এবং ৩৪ জন নাতী ও নাতনী জামাই। এছাড়াও নাতী নাতনীদের ২৩ জন ছেলে মেয়েসহ শতাধিক আত্নীয় স্বজন নিয়ে ঈদ পালন করেছেন। গুলশান আরা বেগমের পক্ষে ছেলের বউ নাজু চৌধূরী ঈদে আগত ছোট শিশুদের ঈদ সালামী দেন। মূলত ঈদসহ বিভিন্ন পারিবারিক উদযাপনে নাজু চৌধূরী তত্ত্বাবধান করেন। ঈদ উপলক্ষ্যে সব আত্নীয় স্বজনরা নিজ নিজ বাসা থেকে খাবার তৈরী করে আনেন। বিশেষ আকর্ষণ থাকে নোয়াখালীর ঐতিহ্যবাহী পিঠা পায়েশ। এছাড়াও মাছ, গরু, খাঁসি, মোরগ ও হাসের গোস্তসহ ২০ প্রকারের রান্না।

ঈদের দিন বেলা ১ টা থেকে এক এক করে আসতে থাকেন। ৩ টার মধ্যে নিজ নিজ আইটেম নিয়ে সাহাব উদ্দিনের বাসায় হাজির। শিশুদের খেলা ধূলা হৈ হৈল্লড়ে মুখরিত হয়ে উঠে বাড়ির আঙ্গিনা। অন্যদিকে বড়রা নিজেদের মধ্যে ঈদের কুশল বিনিময়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। একই সঙ্গে চলছে বাসার ব্যাক ইয়ার্ডে নাস্তা খাওয়া। তখনো গুলশান আরা আ্যটিক থেকে নিছে নেমে আসেননি। নাতী নাতনীরা একেক জন করে তার সঙ্গে দেখা করে আসছে। তারা নিজেদের সাধ্যমত নানুর জন্য নগদ অর্থ ও উপহার সামগ্রী নিয়ে যাচ্ছেন। গুলশান আরা উপহার সামগ্রী সাদরে গ্রহণ করছেন আর সবার জন্য দোয়া করছেন।

গুলশান আরা নাতনীদের সাহায্যে ৫ টার দিকে ব্যাক ইয়ার্ডে আসেন, সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এবার তাকে ঘিরে সবার মাঝে আনন্দ শুরু হয়ে যায়। এবার সবাই মিলে খাওয়ার পর্ব শেষ করেন। পরে শুরু ফটো শেসন পর্ব। অবশ্যই ফটো শেসনের আগেই অনেকেই কুশল বিনিময় করে বিদায় নিয়েছেন।

গুলমান আরা বেগম বলেন, ছেলে মেয়ে নাতী নাতনীদের নিয় ঈদ করতে ভালো লাগে। সবাইকে একসঙ্গে দেখলে মন ভালো থাকে। আমি চাই আমার ছেলে মেয়েরা সবাই একসঙ্গে মিলে মিশে থাকুক। প্রতি বছর একসঙ্গে ঈদ করুক। এটাই আমার আনন্দ।
ছেলের বউ নাজু চৌধুরী বলেন, সবাইকে অর্গানাইজ করা কঠিন। তারপরও সবাইকে নিয়ে বছরে ঈদ ও পিকনিকসহ কয়েকটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করি। নানা ব্যস্ততার মাঝেও প্রবাসে নিজেরা আনন্দ উৎসবের মাঝে ঐক্যবদ্ধ থাকার চেষ্টা করি। আশা করি আমাদের নতুন প্রজন্মের মাঝেও যেন এ সংস্কৃতি চালু থাকে।
উল্লেখ্য, গুলশান আরা বেগমের বাড়ী নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জের চরফকিরা গ্রামে। তার ছেলে শাহাব উদ্দিন চৌ্ধুরীর ৯০ দশকে বাবা ও মাকে আমেরকিায় নিয়ে আসেন। বাবা জয়নাল আবেদীন ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেন। বার্ধক্য জনিত কিছু সমস্যা ছাড়া গুলশান আরা নিজেই চলাফেরা করতে পারেন। তিনি নিজের ইচ্ছামত কয়েকদিন করে ছেলে মেয়েদের বাসায় ভিড়িয়ে আসেন।

Related Post