সেতু মন্ত্রী’র বাড়ীর কাজের মেয়েকে গুম করার চেষ্টা

আগস্ট ২১, ২০১৬ ১১:০৮:পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার রাজাপুর গ্রামের বাড়ীর কাজের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদাউস লিমাকে (১৫) হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পুলিশ উদ্ধার করেছে। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাকে কোম্পানীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গত ৮ আগস্ট মন্ত্রীর ছোট ভাই পৌর মেয়র মির্জা কাদেরকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। হুমকির ১২ দিন পরেই কাজের মেয়ে লিমাকে গুম করার চেষ্টা করা হয়েছে।

পুলিশ সূূত্রে জানাগেছে, সন্ধ্যার সময় বাড়ীর পেছনে খোয়াড়ে হাঁস-মোরগ ঢুকিয়ে ঘরে আসার সময় মুখোশপরা ৪/৫জন দুর্বৃত্ত তাকে মুখ চেপে ধরে স্কচ টেপ লাগিয়ে তার হাত-পা বেঁধে ফেলে। এ সময় দুর্বৃত্তরা ডান হাতের বাহুতে অচেতন ইনজেকশন পুশ করে। এতে সে অজ্ঞান হয়ে গেলে দৃর্বৃত্তরা তাকে বাড়ীর পিছনে বাথরুমের সেফটি ট্যাংকের ওপর ফেলে রাখে। সেতুমন্ত্রীর ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার পরিবারের লোকজন লিমার আসার বিলম্ব দেখে পুলিশকে অবহিত করে। পুলিশ তাদের বাড়ীর চারপাশে খোঁজাখুঁজির পর তাকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে। মূলত লিমাকে গুম করাই তাদের উদ্দেশ্য ছিল। কিন্তু বাড়ীর লোক জনের তৎপরতায় দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ সেলিম জানান, আমরা তাকে অবজারবেশনে রেখেছি। কিছু সময় থাকার পর বুঝা যাবে তার শারীরিক অবস্থা।

কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) মোঃ আবদুল মজিদ জানান, লিমাকে উদ্ধারের স্থান থেকে একটি ইনজেকশানের সিরিজ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে যে ধরনের ইনজেকশন দেয়া হয়েছে তার নমুনা পাওয়া যায়নি।

এদিকে, এ ঘটনার পর এলাকার শত শত নেতাকর্মী মেয়র আবদুল কাদের মির্জাকে দেখতে তার বাড়িতে ছুটে যান। এসময় আবদুল কাদের মির্জ‍া ভালো আছেন বলে সবাইকে আশ্বস্ত করেন। বাড়িতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ৮ আগষ্ট সোমবার রাতে একজন মুখোশধারী দূর্বৃত্ত বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার বাড়ীতে গিয়ে তার বাসভবনে ঢিল নিক্ষেপ করে। এসময় তার বাসার কাজের মেয়ে লিমা ঘরে বাহিরে আসলে ওই মুখোশধারী লিজাকে বলে মেয়র আবদুল কাদের মির্জাকে সে হত্যা করবে রাতে যেন ঘরের দরজা খোলা রাখা হয়। আর যদি লিমা রাতে দরজা খোলা না রাখে তাহলে তাকেও হত্যা করা হবে। ১২দিনের মাথায় তাদের বাসার কাজের মেয়েকে দৃবৃত্তরা হাত-পা বেঁধে রেখে যায়।

Related Post