২২ মহাসড়কে ধীর গতির যানচলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ

আগস্ট ০৭, ২০১৫ ০৫:০৮:অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মহাসড়কগুলোতে এসব ধীর গতির যানচলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে অভিযান অব্যাহত থাকবে। মূলত সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধকল্পে ও বড় যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সারা দেশের ২২টি জাতীয় মহাসড়কে সিএনজি ও ব্যাটারীচালিত অটোরিকশা, অটো টেম্পো এবং অযান্ত্রিক যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সাথে
শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে নিজ নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ) আসনের বাড়িতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে সড়ক-মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধের এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন। তবে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিকল্পনায় সরকার ঘোষণা করেছেন ভবিষ্যতে যে সকল সড়ক-মহাসড়ক চারলেনে উন্নীত করা হবে সে সকল মহাসড়কের পাশে ধীরগতির যানবাহন চলাচলের জন্য বাই-লেন নির্মাণ করা হবে।
এ আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক বদরে মুনির ফেরদৌস, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এসএম আশরাফুজ্জামান, সড়ক বিভাগ কুমিল্লা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী জুনায়েদ আহমেদ, নোয়াখালী সার্কেলের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো:শাহনেওয়াজ প্রমুখ।
এ সময় তিনি আরও বলেন, দেশের আড়াই লাখ কিলোমিটার জাতীয়, আঞ্চলিক, জেলা ও গ্রামীণ সড়ক রয়েছে। তার মধ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সড়ক-মহাসড়কের পরিমাণ ২১ হাজার কিলোমিটার। এরমধ্যে জাতীয় মহাসড়ক প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার। এসব সড়কে দুর্ঘটনা রোধ ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার অটোরিকশা চালনা নিষিদ্ধের এ ঘোষণা করেছে। এতে লক্ষণীয় গত কয়েক দিনে মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমেছে।
তিনি অটোরিকশা বন্ধের ইতিবাচক দিক উল্লেখ রতে গিয়ে বলেন, জাতীয় মহাসড়কগুলো দেশব্যাপী ছড়িয়ে আছে। এসকল সড়কে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, লরী চলাচল করে। অপেক্ষাকৃত ছোট আকারের ও ধীর গতির গাড়িসমূহ বড় যানবাহনের গতি মন্থর করে দেয়। উপরন্তু অহরহ ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। মূল্যবান প্রাণহানী ঘটছে। গুর”ত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোর মধ্যে যেসকল মহাসড়কে বেশি দুর্ঘটনা ঘটছে সেসকল মহাসড়কে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ সময়ের দাবী।
সিএনজি অটোরিকশার বিষয়ে আরও বলেন, দেখা যায় বেশিরভাগ অটোরিকশা সিএনজিচালিত। অনেকক্ষেত্রে দেখা যায়, সিএনজি স্টেশনগুলো মহাসড়কের পাশে অবস্থিত। সে জন্য সিএনজি চালকদের গ্যাস সংগ্রহের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মহাসড়ক সংলগ্ন সিএনজি স্টেশন থেকে গ্যাস সংগ্রহের জন্য প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত দু’ঘন্টা সময় নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।
এ সময় মন্ত্রী বলেন, গত ১ আগস্ট থেকে সারা দেশের মহাসড়কে অটোরিকশা ও অযান্ত্রিক যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করে সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, ‘সড়কে নিরাপত্তা বিধানে আগামী ১ আগস্ট থেকে সারা দেশের জাতীয় মহাসড়কে থ্রি হুইলার অটোরিকশা এবং সকল শ্রেণির অযান্ত্রিক যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’ এখন থেকে তা সুনির্দিষ্ট করে শুধু ২২টি জাতীয় মহাসড়কে বন্ধ থাকবে অটোরিকশা।
অটোরিকশা যে সকল মহাসড়কে বন্ধ থাকবে সেগুলো হচ্ছে- জাতীয় মহাসড়ক এন-১ কাচপুর সেতু (ঢাকা)- মদনপুর-কুমিল্লা-ফেনী-চট্টগ্রাম-রামু (কক্সবাজার), এন-২ কাচপুর সেতু (ঢাকা)-ভেলানগর (নরসিংদী)-ভৈরব-সরাইল-মাধবপুর-মিরপুর-শেরপুর-সিলেট বাইপাস, এন-৩ জয়দেবপুর চৌরাস্তা-ময়মনসিংহ বাইপাস পয়েন্ট, এন-৪ জয়দেবপুর চৌরাস্তা-টাঙ্গাইল-জামালপুর, এন-৫ আমিনবাজার সেতু (ঢাকা)-মানিকগঞ্জ-পাটুরিয়া ঘাট-খয়েরচর ঘাট-কাশিনাথপুর-হাটিকমরুল-বগুড়া বাইপাস-রংপুর বাইপাস- সৈয়দপুর বাইপাস- দশমাইল (দিনাজপুর)- ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড়-বাংরাবান্দা, এন-৬ কাশিনাথপুর (পাবনা)-পাবনা বাইপাস-দশুড়িয়া-নাটোর বাইপাস-রাজশাহী বাইপাস-নবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ- বালিয়াদীঘি স্থলবন্দর, এন-৭ দৌলতদিয়া-ফরিদপুর (রাজবাড়ী মোড়)- মাগুরা-ঝিনাইদহ বাইপাস-যশোর বাইপাস-খুলনা সিটি বাইপাস-মংলা, এন-৮ তেঘরিয়া মোড় (ঢাকা)-মাওয়া-কেওড়াকান্দি-ভাঙ্গা-বরিশাল-পটুয়াখালী, এন-১০২ ময়নামতি (কুমিল্লা)-ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাইপাস-সরাইল, এন-১০৫ মদনপুর-ভুলতা-মিরেরবাজার-ভোগড়া-কড্ডা (ঢাকা বাইপাস), এন-৪০৫ এলেঙ্গা-নলকা-হাটিকমর”ল, এন-৫০২ বগুড়া-নাটোর, এন-৫০৬ রংপুর-বড়বাড়ী-কুড়িগ্রাম, এন-৫০৭ হাটিকমর”ল-বনপাড়া, এন-৫০৯ বড়বাড়ী-লালমনিরহাট-বুড়িমারি, এন-৫৪০ নবীনগর-ইপিজেড-চন্দ্রা, এন-৭০২ যশোর-মাগুরা, এন-৭০৪ ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া-দাশুড়িয়া, এন-৭০৬ চাঁচড়া মোড় (যশোর)-বেনাপোল, এন-৮০৪ ভাঙ্গা-ফরিদপুর বাইপাস-রাজবাড়ী মোড়, এন-৮০৫ ভাঙ্গা-ভাটিয়াপাড়া-মোল্লারহাট-ফরিকহাট-নোয়াপাড়া, এন-৮০৬ ভাটিয়াপাড়া-কালনা-লোহাগড়া-নড়াইল-যশোর।

Related Post