৫ লাখ টাকায় কোম্পানীগঞ্জের মিলন হত্যা মামলা প্রত্যাহার : উপজেলা চেয়ারম্যানের মাধ্যমে সমঝোতা

জুলাই ২৭, ২০১৫ ০৫:০৭:অপরাহ্ণ

milon1নিজস্ব প্রতিবেদক

৫ লাখ ও বিদেশে পাঠানোর কথা বলে নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জের চাঞ্চল্যকর মিলন হত্যা মামলা তুলে নিয়েছে পুলিশ। এতে মধ্যস্ততা করেছেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর বাদল। তবে নিহত মিলনের পিতার অভিযোগ তাকে ১০ লাখ টাকা দেওয়ার কথা ছিল কিন্তু এসআই আকরাম শেখ ৫ লাখ টাকায় মামলা শেষ করতে তাকে বাধ্য করেছে। বিদেশ পাঠানোর কথা দিলেও কথা রাখেনি।


পুলিশে চাপে পরামর্শে গত বছর ২৪ ডিসেম্বর মিলনের মা মামলার বাদী কোহিনুর বেগম আদালতে ‘এজাহারনামীয় ও সন্দিগ্ধ ধৃত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নাই; আসামিরা অভিযোগের দায় হইতে মুক্তি পাইতে ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তিতে কোনো আপত্তি নাই ও থাকিবে না’ মর্মে আবেদন করেন। এরপর মিলনের বাবাকে দেওয়া হয় পাঁচ লাখ টাকা। তারপর দ্রুতই মামলা ‘গুছিয়ে ফেলে’ পুলিশ।
তবে মিলনের পরিবারের অভিযোগ, এসআই আকরাম শেখ তাঁকে দফায় দফায় ফোন করে ‘বেয়াই’ সম্বোধন করেন। তাঁকে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার এবং বৈধভাবে আবার বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেন। এসআই আকরামই প্রায় দেড় বছর আগে মিলনের বাবা গিয়াস উদ্দিনকে সৌদি আরব থেকে দেশে আশার পরামর্শ দেন।

মিলনের বাবা বলেন, আমার ছেলের জীবনের মুল্য টাকা দিয়ে পরিমাপ করা যাবেনা। এ ঘটনায় প্রভাবশালী ও পুলিশের হয়রানির কারণে আমরা অসহায় হয়ে পড়ি। ছেলের মৃত্যুর পর বিভিন্ন সমস্যায় আমরা নিজস্ব হয়ে পড়েছি।  সংসারে আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি বাড়িতে অন্যের জায়গায় যে বসতঘর ছিল, তারাও তা সরিয়ে নিতে চাপ দিতে থাকে। এ অবস্থায় তিনিও টাকা নেওয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায় দেখছিলেন না। তাই বাধ্য হয়ে মামলা নিষ্পত্তিতে রাজি হন।
তিনি বলেন, এসআই আকরাম শেখ মামলা নিষ্পত্তির কথা বলে তাঁকে দেশে এনেও প্রতারণা করেছেন। ১০ লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলে পরে আট লাখ, তারপর সাত লাখ; শেষে পাঁচ লাখ টাকার বেশি দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেন। উপায় না দেখে তিনি পাঁচ লাখ টাকাতেই রাজি হন। তিন মাস আগে তাঁরা স্বামী-স্ত্রী গিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আসেন।


মামলার নিষ্পত্তির বিষয়ে মিলনের পরিবার বলছে সাড়ে তিন বছর ধরে বিচারের আশায় ঘুরেছি। পুলিশ ৫২ বার সময় নিয়েও অভিযোগপত্র দেয়নি।
ন্যায় বিচারের আশায় দৌঁড়তে দৌঁড়তে নিঃস্ব হয়ে গেছি। আবার পুলিশ এবং অন্য লোকজনও মামলা নিষ্পত্তি করার জন্য সব সময় চাপ দিয়ে আসছে।
২০১১ সালের ২৭ জুলাই কোম্পানীগঞ্জের চর কাঁকড়া ইউনিয়নের নিরীহ কিশোর মিলনকে (১৬) ডাকাত সাজিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পুলিশ গাড়িতে করে এনে উন্মত্ত জনতার হাতে ছোট্ট এই কিশোরকে ছেড়ে দেয়। সেখানে পুলিশের উপস্থিতিতেই তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। পুলিশের গাড়ি থেকে তাকে নামিয়ে দেওয়াসহ পুরো ঘটনাটির ভিডিওচিত্র প্রকাশিত হলে স্তম্ভিত হয়ে পড়ে প্রশাসনসহ সাধারণ মানুষ।

 

তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন মামলা দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেন। প্রথম দিকে জড়িত কয়েক পুলিশ অফিসারকে শাস্তিমূলক প্রত্যাহার করা হলেও কয়েক মাস পরেই চিত্র পাল্টে যায়। মামলা তুলে নেয়ার জন্য মিলনের পরিবারকে চাপ দেয় পুলিশ। অবশেষে পুলিশই জয়ী। মিলনের মৃত্যুর জন্য তার পরিবার পেল ৫ লাখ!

Related Post