দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশী প্রবাসীর হাতে প্রবাসী খুন

জুন ২৩, ২০১৬ ০১:০৬:অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
দক্ষিণ আফ্রিকায় বেলাল হোসেন (৩৩) নামের অন্য এক বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে স্বদেশী রুবেল হোসেন (২৯)। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার দিবাগতরাতে জোবার্গ শহরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত বেলাল হোসেনের সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা ইউনিয়নের বারাইনগর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসকারী বেলালের ঘনিষ্টদের দাবী, নিজেদের মধ্যে আর্থিক লেনদেন নিয়ে সোনাইমুড়ী পৌরসভার ভানুয়াই গ্রামের চুক্ষু মিয়ার ছেলে রুবেল হোসেন এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের সচ্ছলতা আনতে ২০০৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় যায় বেলাল। পরে আফ্রিকার জোবার্গ শহরে নিজের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করে সে। ২০০৬ সালের পর থেকে আর বাড়ী আসিনে বেলাল। চলতি বছরে বাড়ীতে এসে বিয়ে করার কথা ছিল। ৬ বোন ও ২ ভাইয়ের মধ্যে বেলাল সবার বড় ছিল।

কান্না জড়িত কন্ঠে নিহত বেলাল হোসেনের পিতা আবুল কাশেম জানান, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকেলে মোবাইলে বেলালের সাথে তার কথা হয়। এসময় বেলাল তাকে জানান যে, সোনাইমুড়ী পৌরসভার বানুয়ায় গ্রামের রুবেল নামের এক যুবক গত এক বছর আগে ব্যবসা করবে বলে তার কাছ থেকে ৪২’হাজার রিয়াল নিয়ে ছিল। কিন্তু গত কয়েকদিন আগে থেকে টাকার দেওয়ার জন্য রুবেলকে বললে রুবেল তাকে হত্যা করার হুমিক দিচ্ছে। পরে তিনি ওই টাকার জন্য রুবেলের সাথে কোন প্রকার বিরোধে না জড়ানোর জন্য বেলালকে নিষেধ করে কথা শেষ করেন।

তিনি আরো জানান, পরে ওইদিন রাতেই আফ্রিকা থেকে বেলালের সিলেটের এক বন্ধু তাকে মোবাইলে জানান টাকা লেনদেনের সূত্রধরে বেলালের নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে তাকে পিস্তল দিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যায় রুবেল। এসময় বেলালের মাথা ও কানের পাশে গুলি লাগে। পরে স্থানীয়রা বেলালকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেলালের হত্যাকারী রুবেলের বিরুদ্ধে সোনাইমুড়ী থানায় কয়েকটি হত্যা মামলা রয়েছে। তাই আর কোন বাংলাদেশির ক্ষতি করার আগে রুবেলকে দ্রুত আটক করে আইনের আওতায় আনার দাবি করেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা।

উল্লেখ্য, দক্ষিণ আফ্রিকায় গত দুই বছরে সন্ত্রাসীর হাতে ৭ জন বাংলাদেশী খুন হয়েছেন। এছাড়াও বাংলাদেশী বসবাসকারী এলাকায় নিয়মিত ডাকাতির ঘটে চলেছে। সে দেশের প্রশাসনও আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ব্যর্থ হচ্ছে।

তথ্য স্র্র্র্রূত্র: নোয়াখালীর পাতা

Related Post